জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম
সনদে ভুল থাকলে নতুন করে নিবন্ধন নয়, সংশোধনের আবেদন করতে হয়। কোন ভুলে কী কাগজ লাগে, সেটাই এখানে গুছিয়ে দিলাম।
এই পাতায় যা আছে
সনদে নামের বানান ভুল, বাবা বা মায়ের নামের অমিল, জন্ম তারিখে গরমিল, এই ভুলগুলো সবচেয়ে খারাপ সময়ে ধরা পড়ে। পাসপোর্ট অফিসে কাগজ জমা দেওয়ার দিন, বা বিয়ের নিবন্ধনের সময়।
অফিসে বসে যে অনুরোধটা সবচেয়ে বেশি শুনি সেটা হলো, “ভাই নতুন একটা করে দেন না।” এই কাজটা করবেন না। একই ব্যক্তির দুটো নিবন্ধন ডেটাবেজে থেকে গেলে পরে সেটা ছাড়ানো অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।
কোন তথ্য সংশোধন করা যায়
- নিজের নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
- জন্ম তারিখ
- পিতা ও মাতার নাম
- লিঙ্গ
- স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা
- জাতীয়তা
সব সংশোধনের কড়াকড়ি এক রকম নয়। বানানের ছোট ভুল তুলনামূলক সহজে হয়। কিন্তু জন্ম তারিখ বা পিতা-মাতার নাম বদলানো মানে পরিচয়ের মৌলিক তথ্য বদলানো, তাই সেখানে যাচাই অনেক কড়া এবং অনুমোদন উপরের স্তর থেকে আসে।
কী কী কাগজ লাগে
| যে তথ্য সংশোধন করবেন | সাধারণত যেসব প্রমাণ চাওয়া হয় |
|---|---|
| নিজের নামের বানান | শিক্ষা সনদ, এনআইডি বা পাসপোর্ট |
| জন্ম তারিখ | শিক্ষা সনদ, টিকা কার্ড, চিকিৎসকের বয়স প্রত্যয়ন |
| পিতা-মাতার নাম | তাদের এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন সনদ |
| ঠিকানা | হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বা বিদ্যুৎ বিল |
| লিঙ্গ | এনআইডি বা শিক্ষা সনদ |
একটা কথা মাথায় রাখুন। যে কাগজটি প্রমাণ হিসেবে দিচ্ছেন, তার তথ্য যদি নিজেই ভুল থাকে, তাহলে আবেদন টিকবে না। আগে সেই কাগজটি ঠিক করান।
আবেদনের ধাপ
- bdris.gov.bd-এ গিয়ে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের অপশনটি বেছে নিন
- ১৭ ডিজিটের নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে রেকর্ডটি খুঁজে বের করুন
- কোন তথ্যটি বদলাতে চান সেটি নির্বাচন করে সঠিক তথ্য লিখুন
- সংশোধনের কারণ বেছে নিন
- প্রমাণপত্র আপলোড করুন
- আবেদন জমা দিয়ে আবেদন নম্বরটি সংরক্ষণ করুন
- প্রিন্ট কপি ও মূল কাগজপত্র নিয়ে কার্যালয়ে যান
আবেদন জমার পর অনলাইনে অবস্থা দেখে নিতে পারবেন কাজটা কোন পর্যায়ে আছে।
যে ভুলগুলোয় আবেদন আটকে যায়
- প্রমাণপত্রের ছবি ঝাপসা বা অংশবিশেষ কাটা
- আবেদনে লেখা বানান আর প্রমাণপত্রের বানান আলাদা
- একসাথে অনেকগুলো তথ্য বদলানোর চেষ্টা
- আবেদন করে অফিসে কাগজ জমা না দেওয়া
শেষটা সবচেয়ে বেশি হয়। অনলাইনে জমা দিয়ে অনেকে ভাবেন কাজ শেষ। আসলে কার্যালয়ে মূল কাগজ না দেখানো পর্যন্ত আবেদন এগোয় না।
সংশোধনের পর অবশ্যই যাচাই করে দেখে নেবেন নতুন তথ্যটি ঠিকমতো বসেছে কিনা।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
ভুল থাকলে কি নতুন করে নিবন্ধন করা যাবে?
না, এটি করবেন না। একই ব্যক্তির দুটি নিবন্ধন হয়ে গেলে পরে এনআইডি বা পাসপোর্টের সময় বড় জটিলতা তৈরি হয়। সঠিক পথ হলো সংশোধনের আবেদন করা।
জন্ম তারিখ সংশোধন করা যায় কি?
যায়, তবে এটি সবচেয়ে কড়া যাচাইয়ের বিষয়। শিক্ষা সনদ, চিকিৎসকের প্রত্যয়ন বা টিকা কার্ডের মতো শক্ত প্রমাণ লাগে এবং অনুমোদন উচ্চতর কর্তৃপক্ষ থেকে আসে।
কতবার সংশোধন করা যায়?
সাধারণত একটি তথ্য একবারই সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়। তাই আবেদনের সময় বানান ও তারিখ খুব সাবধানে লিখবেন।
সংশোধনে কত সময় লাগে?
সাধারণ বানান সংশোধন কয়েক কর্মদিবসেই হয়ে যায়। জন্ম তারিখ বা পিতা-মাতার নামের মতো বিষয় উচ্চতর অনুমোদনে যায় বলে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
আবেদন বাতিল হলে কী করব?
কোন কারণে বাতিল হয়েছে সেটি কার্যালয় থেকে জেনে নিন। সাধারণত প্রমাণপত্র যথেষ্ট না হলে বাতিল হয়। শক্ত প্রমাণসহ আবার আবেদন করা যায়।
Google-এ প্রিয় সোর্স হিসেবে যোগ করুন
এরপর থেকে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সার্চে আমাদের সাইট আগে দেখতে পাবেন।