১৩ ও ১৬ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ১৭ ডিজিট করার নিয়ম

অনলাইনে যাচাই করতে ১৭ ডিজিটের নাম্বার লাগে। ১৩ ডিজিটের নাম্বার থাকলে শুরুতে জন্মসাল বসিয়ে নিলেই কাজ হয়ে যায়।

এই পাতায় যা আছে

অনেকের হাতে এখনো পুরনো সনদ আছে, যেখানে নম্বরটি ১৬ বা ১৩ সংখ্যার। এই নম্বর দিয়ে অনলাইনে যাচাই করতে গেলে কিছুই আসে না। কারণটা সহজ, সরকারি ডেটাবেজে সব রেকর্ড ১৭ ডিজিটের ফরম্যাটে রাখা।

১৭ ডিজিটের নাম্বার কীভাবে সাজানো

সংখ্যাগুলো এলোমেলো নয়, প্রতিটি অংশের আলাদা অর্থ আছে:

  • প্রথম ৪ সংখ্যা — জন্মসাল
  • পরের অংশ — দেশ ও এলাকার কোড, অর্থাৎ কোন বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন
  • শেষ অংশ — ওই কার্যালয়ে ওই বছরের ব্যক্তিগত ক্রমিক নম্বর

এজন্যই যাচাইয়ের সময় নম্বরের প্রথম চারটি সংখ্যা আর জন্মসাল না মিললে বুঝতে হবে কোথাও ভুল হচ্ছে। আমাদের ফরমটি এই মিলটা আগেই ধরে ফেলে।

১৩ বা ১৬ ডিজিট থাকলে করণীয়

১৩ ডিজিটের নাম্বার হলে কাজটা সহজ। নাম্বারের শুরুতে জন্মসালটি বসিয়ে দিলেই ১৭ ডিজিট হয়ে যায়।

যেমন কারও ১৩ ডিজিটের নাম্বার 9234567890123 এবং জন্মসাল 2005 হলে, ১৭ ডিজিটের নাম্বারটি হবে 20059234567890123। এই নাম্বার দিয়ে সরাসরি যাচাই করে দেখতে পারেন।

১৬ ডিজিটের নাম্বার হলে প্রচলিত ধারণা হলো, জন্মসালের পরে একটি শূন্য বসিয়ে দিলেই ১৭ ডিজিট হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি মিলেও যায়।

তবে এটিকে নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এলাকা কোডের কাঠামো বিভিন্ন সময়ে বদলেছে, তাই সব সনদের ক্ষেত্রে সূত্রটি খাটে না। চেষ্টা করে দেখতে পারেন, কিন্তু তথ্য না এলে অনুমান করে আরও নাম্বার বসাতে যাবেন না। তাতে অন্য কারও রেকর্ডও চলে আসতে পারে, যেটা আরও বিভ্রান্তিকর।

নিরাপদ পথ একটাই। যে কার্যালয় থেকে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে সনদটি নিয়ে যান, ভলিউম বই মিলিয়ে তারা সঠিক ডিজিটাল নাম্বারটি বের করে দেবেন।

সনদ ডিজিটাইজ করানো

যদি দেখা যায় রেকর্ডটি অনলাইনে ওঠেইনি, তাহলে আগে ডিজিটাইজ করাতে হবে।

  1. পুরনো সনদের মূল কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যান
  2. রেজিস্টার বইয়ে রেকর্ডটি আছে কিনা খুঁজে দেখতে বলুন
  3. পাওয়া গেলে অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করুন
  4. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিন
  5. অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ১৭ ডিজিটের নাম্বারটি সংগ্রহ করুন

রেজিস্টারেই যদি রেকর্ড না থাকে, তাহলে এটি নতুন নিবন্ধনের মতো করেই করতে হবে। সেক্ষেত্রে নতুন আবেদনের গাইডটি দেখুন।

নম্বর হাতে পাওয়ার পর অনলাইনে যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

১৩ ডিজিটের নাম্বার দিয়ে যাচাই করা যায়?

সরাসরি যায় না, তবে নাম্বারের শুরুতে জন্মসাল বসিয়ে ১৭ ডিজিট করে নিলে যাচাই করা যায়। যেমন নাম্বার 9234567890123 ও জন্মসাল 2005 হলে হবে 20059234567890123।

১৬ ডিজিটের নাম্বারে নিজে একটা শূন্য বসিয়ে দিলে কি হবে?

অনেক ক্ষেত্রে মিলে যায়, চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে না মিললে আর অনুমান করবেন না, কার্যালয় থেকে সঠিক নাম্বারটি নিশ্চিত করে নিন।

১৭ ডিজিটের নাম্বার কোথায় পাব?

যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে গেলে রেজিস্টার দেখে নম্বরটি বের করে দেওয়া হয়।

পুরনো হাতে লেখা সনদ কি এখনো বৈধ?

আইনগতভাবে বৈধ। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইনে যাচাই করতে চায়, আর পুরনো তথ্য ডেটাবেজে না থাকলে সেখানেই আটকে যেতে হয়।

ডিজিটাইজ করাতে কত সময় লাগে?

কার্যালয়ের কাজের চাপ ও পুরনো রেজিস্টার খুঁজে পাওয়ার উপর নির্ভর করে। কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

Google-এ প্রিয় সোর্স হিসেবে যোগ করুন

এরপর থেকে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সার্চে আমাদের সাইট আগে দেখতে পাবেন।

যোগ করুন